‘দেয়ালের উপর চঞ্চল ছায়া, প্রেতবৎ নাচিতেছে’-কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা শোবার ঘরে ছোট বাতি মৃদুভাবে জ্বলতে থাকায় ঘরের দেয়ালের ওপর আলো-ছায়ার যে নৃত্য সৃষ্টি হয় সেটিকে বোঝানো হয়েছে।রাতে কমলাকান্ত একা শোবারঘরে বিছানার ওপর বসে হুঁকা হাতে নিয়ে ঝিমাচ্ছিল। পাশেই একটি ক্ষুদ্র প্রদীপ মিট মিট করে জ্বলছিল। প্রদীপটির আলো ঘরের দেয়ালের ওপর পড়ে ওর চঞ্চল ছায়াটি প্রেতের মতো নাচানাচি করছিল। কমলাকান্ত নেশার ঘোরে … Read more

‘অনাহারে মরিয়া যাইবার জন্যে এ পৃথিবীতে কেহ আইসে নাই’-বিড়াল কেন এ কথা বলেছে?

সকলের খাবার পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিড়াল আলোচ্য উক্তিটি করেছে।প্রকৃতি অকৃপণ হাতে তার নানারকম সম্পদে আমাদের পৃথিবীকে ভরিয়ে রেখেছে। মানুষ প্রকৃতি হতে সংগৃহীত এসব জিনিস দখল করে সেটাকে একান্তই নিজের বলে মনে করে। ওই সম্পদে কেই ভাগ বসাতে গেলে তীব্রভাবে তাতে বাধা দেয়। কিন্তু একথা মানুষ বেমালুম ভুলে যায় যে, প্রকৃতির এ সম্পদে তার … Read more

‘তোমাদের পেট ভরা, আমার পেটের ক্ষুধা ক প্রকারে জানিবে?’ ব্যাখ্যা করো।

অভাব না থাকলে যেমন অভাবের মাহাত্ম্য বোঝা মুশকিল তেমনি ক্ষুধার কষ্ট কেমন তা না জানলে ক্ষুধিতের দুঃখ বোঝা অসম্ভব।কোনো বিষয় অনুভব করার জন্যে সে বিষয় সম্পর্কে নিজস্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। একজন ব্যথিতই কেবল অন্যের ব্যথা বুঝতে সক্ষম হয়। এ সংসার বেশির ভাগ লোকই নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্যের দুঃখ-কষ্টকে অনুভব করে তাদের ব্যথায় ব্যথিত … Read more

‘খাইতে দাও না হলে চুরি করিব’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

‘খাইতে দাও না হলে চুরি করিব’ কথাটি দ্বারা বিড়ালের যে খাদ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে সেটা বোঝানো হয়েছে।জীবের সবচেয়ে বড় এবং প্রথম চাহিদা হলো খাদ্য আর এই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই পৃথিবীর বেশির ভাগ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কেই যখন স্বাভাবিক উপায়ে খাবার পাওয়ার রাস্তা না পায় তখন চুরি করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকে না। তাছাড়া … Read more

বড় বড় সাধু ব্যক্তিরা চোর অপেক্ষা অধিক অধার্মিক কেন?

বড় বড় সাধু ব্যক্তিরা দরিদ্র শ্রেণির দিকে সাহায্যের হাত বাড়ান না বলেই তাঁরা চোর অপেক্ষাও অধার্মিক।বড় বড় সাধু ব্যক্তিরা চুরি করাকে বিশাল অপরাধ বলে মনে করলেও চুরির পেছনের কারণ নিয়ে ভাবেন না। অভাবে পড়ে প্রায়ই মানুষ চুরিসহ নানা অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়। ওইসব সাধু ধনী ব্যক্তিরা যদি দরিদ্র ও অভাবী মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন … Read more

বিড়াল তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে কেন?

ক্ষুধার্ত অবস্থায় দুধ চুরি করে খাওয়াকে ন্যায়সংগত ও যথোচিত বিবেচনা করে বিড়াল তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে।‘বিড়াল’ রচনার কমলাকান্তের জন্যে রাখা দুধ চুরি করে খাওয়ার অপরাধে কমলাকান্ত বিড়ালকে প্রহার করতে উদ্যত হলে সে তাকে বাধা দিয়ে জানায়, সে ক্ষুধার্ত ছিল বলে দুধ চুরি করে খেয়েছে। ক্ষুধার্ত জীবকে আহার দেওয়াই ধর্ম, এক্ষেত্রে কমলাকান্ত ধর্মের ফলভোগের সুযোগ … Read more

কমলাকান্ত বিড়ালের বক্তব্য কিভাবে বুঝতে পারল?

কমলাকান্ত বিড়ালের বক্তব্যসকল দিব্যকর্ণের মাধ্যমে শুনতে পেল, যা তার জাগ্রত বিবেককে নির্দেশ করে।লোকচক্ষুর অন্তরালে অতীন্দ্রিয় শক্তির ফলে মানুষ যা বুঝতে সক্ষম হয় তাই দিব্যকর্ণ। স্বাভাবিকভাবে বিড়ালের ‘মেও’ শব্দের মাধ্যমে কোনো বক্তব্য জনসাধারণের বোধগম্য হয় না, কিন্তু কমলাকান্ত সচেতন চিত্তের অধিকারী বলে আপন অনুভবে তার বক্তব্যের যথার্থতা উপলব্ধি করে। অর্থাৎ কমলাকান্ত উচ্চ মানসিক চেতনাসম্পন্ন হওয়ায় অলৌলিকভাবে … Read more

যে চোরের নামে আঁতকে ওঠে, তাকে চোরের চেয়েও অধার্মিক বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।

যে চোরের নামে আঁতকে ওঠে, সে চোরের চেয়ে বড় অন্যায় করে বলেই তাকে চোরের চেয়ে বড় অধার্মিক বলা হয়েছে। মূলত যারা নিতান্তই দৈন্য বা ক্ষুধার তাড়নায় কাহিল, তারা চুরি করে জীবন বাঁচানোর জন্যে। এটা খারাপ হলেও জীবন বাচানোর জন্যে আবশ্যক। কিন্তু যাদের অনেক থাকা সত্ত্বেও অন্যকে বঞ্চিত করে তারা চোরের চেয়েও বড় অধার্মিক। কারণ তারা … Read more

error: Content is protected !!